সাইবার ডিপ্লমেসি, বৈশ্বিক মান ও বহুপক্ষীয় যৌথ চুক্তির আহ্বান জানালেন পলক
উপাত্ত ফাঁস, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো, ডিজিটাল বৈষম্য এবং অসম প্রভাবের সঙ্গে লড়াই করে অনলাইন মার্কেট প্লেসে সুনাম অর্জন করে দেশের সাড়ে ৬ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু তারপরও মুহুর্মুহু সাইবার হামলায় আক্রন্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মেধাসত্ব সম্পদ সুরক্ষার ঝুঁকি। আর এই দুই কারণেই দেশের ভাব মর্যাদা বিশ্বে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মেনে করছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আর এজন্য সাইবার স্পেসের সুরক্ষায় বিশ্ব নেতাদের এক কাতারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সাইবার সুরক্ষায় দুর্ঘটনাকালীন সহায়তায় আন্তর্জাতিক একটি মান নির্ধারণ এবং সরকারি-বেসরকারী যৌথ অংশীদারিত্বে বহুপক্ষীয় যৌথ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে চলমান সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে বুধবার অনুষ্ঠিত একটি সাইডলাইন বৈঠকে দেয়া বক্তব্যে এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাইবার স্পেস একটি মডেল। এখানে কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। তাই এই দুনিয়ায় নিরাপদ থাকতে হলে পুরো বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হবে। আমি মনে করি, এখানে উপস্থিত অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীই আমার সঙ্গে এক মত হবেন।
সাইবার বিশ্বে রয়েছে দুইটি দল। এদের একটি দল ইতিমধ্যেই হ্যাকিংয়ের শিকার। আর অন্য দলটি জানেনা তারাও হ্যাকিংয়ের হুমকির মুখে রয়েছেন- যোগ করেন পলক।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অ্যাকশন টু সিকিউর সাইবার স্পেস ফর অল শর্ষক বৈঠকে দেয়া বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাগরিক সুরক্ষায় সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা আইন পাশ করার কথা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে শেয়ার করেন জুনাইদ আহমেদ। জানান ডেটা প্রাইভেসি আইন তৈরির বিষয়টিও।
পলক আরো বলেন, সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলায় নিয়মিতি সিকিউরিটি অডিট, নজরদারির মতো বিষয়ে বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। এজন্য বিনিয়োগের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত বিনিময়; দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক একটি চুক্তি করতে পারি এবং ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম গঠন ও একটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করতে পারি। এছাড়াও নিয়মিত যৌথ সাইবার ড্রিল ও সিম্যুলেশন প্রোগ্রাম, সাইবার কুটনৈতিক কার্যক্রম শুরু এবং ক্রসবর্ডার কোলাবরেশন খুবই প্রয়োজন।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অধিবেশন চলবে।







